অনলাইন ক্লাস কি মঙ্গল নাকি অমঙ্গল ?
অনলাইন ক্লাস কি মঙ্গল নাকি অমঙ্গল ?
অনলাইন ক্লাস কি কেবল ছাত্রদের মঙ্গলের কথা বিবেচনা করে করা হচ্ছে? নাকি এই কথা বলার জন্য যে আমরাও বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সাথে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি, দেশ ডিজিটালাইজড হয়ে গেছে বলে bragging করার জন্য হচ্ছে? অনলাইন ক্লাস ছাড়াও আমাদের ছাত্রছাত্রীরা যে হাজারো সমস্যার কারণে তাদের ভবিষ্যত নষ্ট হচ্ছিল তখন কি সবাই ঘুমাচ্ছিল? কয়েকদিন আগেই আমাদের উপাচার্য আমাদের ছাত্রদের কথা বিবেচনা করে বলেছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনলাইন ক্লাস হবে না। ছাত্র শিক্ষকরা উনার সেই বক্তব্য খুবই প্রশংসা করেছিলেন। এর কয়েকদিন পরেই তিনিই আবার উল্টে গেলেন। প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে অনলাইন ক্লাস নিচ্ছে সেটাও ছাত্রদের মঙ্গলের কথা ভেবে না বরং টিউশন ফী ও অন্যান্য ফী পাওয়াটা জাস্টিফাই করার জন্য।
বিশ্বব্যাপি একটা প্যান্ডেমিক চলছে এবং দেশের করোনা পরিস্তিতি ভয়াবহ। ছাত্ররা ভেবেছিল অল্প সময়ের জন্য বাড়ি যাচ্ছে তাই বাড়ি যাবার সময় সঙ্গে করে বই খাতা নিয়ে যায়নি। অনেকের বাড়িতে ইন্টারনেট কানেকশন ভালো নাই। অনেকের আর্থিক অবস্থা করুন। এইসবের মাঝে একটা আমি শিক্ষক হিসাবে আমিও খুব ভালো মেন্টাল স্টেটে নেই। তার উপর ক্লাস নেওয়ার মত উপকরণ যেমন বোর্ড হিসাবে ব্যবহারের জন্য অতিরিক্ত একটা ট্যাব নেই। প্রতিদিন দুই থেকে তিনবার বিদ্যুৎ যায়। ধারণা করছি এবং অনেকের কাছ থেকে জেনেছি গ্রামাঞ্চলে এটা আরো বেশি। এতসব নেইয়ের মধ্যে আমি কিভাবে ক্লাস নিব? মন কি কোন বৈদ্যুতিক সুইচ যে টিপলেই কাজ শুরু করে দিবে?
কামরুল হাসান মামুন,
অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

No comments